প্রান্তজন রিপোর্ট: কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রায় ১৫ বস্তা সরকারী পাঠ্য বই বিক্রি করে দিলেন খোলাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন। গত বুধবার দুপুরে, নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খোলাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাশ ছুটির দিনে প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাহ্ উদ্দিন কোন প্রকার বিধি অনুসরণ না করে লাইব্রেরি পরিষ্কারের নামে প্রায় ১৫ বস্তা সরকারি ক্লাশের পাঠবই বিক্রি করে দিয়েছেন।
‘এই যে বইগুলো বিক্রি করলেন, এত বই কোথায় পেলেন? বই বিক্রির অনুমতি আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেনÑ ২০২১-২০২৫ সাল পর্যন্ত জমাকৃত বই। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে সংগ্রহ করেছি। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ বই-ই অব্যবহৃত। যা প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার খাতাসহ ঊনিশ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু জেলা শিক্ষা অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কোন বিদ্যালয়কে ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ সালের বই বিক্রিতে নির্দেশনা দেয়া হয় নাই। এমন কি পুরাতন বই বিক্রির জন্য কোন চিঠি বা পরিপত্র প্রদান করা হয়নি। পুরাতন বই বিক্রির জন্য সরকারিভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চিঠি প্রদান করা হয়, তখন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বই বিক্রি করতে হয়।
উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর ছাত্র/ছাত্রীদের বইয়ের চাহিদা মোতাবেক সরকারিভাবে বই প্রদান করা হয়। এত বই ছাত্র/ছাত্রীদের দেবার পর অফিসে থাকার সুযোগ নেই। তাহলে বইগুলো স্কুলে জমা থাকলো কীভাবে? নিশ্চয়ই বই প্রাাপ্তির চাহিদাতে গরমিল আছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ০১৭১১০৫৪১২৪ নম্বরের মোবাইল ফোন হতে প্রতিবেদককে বলেন, প্রধান শিক্ষক বিষয়টি না বুঝে বই বিক্রি করে ফেলেছেন, বিষয়টির কীভাবে সমাধান করা যায়? এ প্রসঙ্গে নলডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইদুর রহমান বলেনÑ বই বিক্রির বিষয়টি আমি অবগত নই এবং নাটোর জেলা শিক্ষা অফিসার রুস্তম আলী হেলালী এ প্রসঙ্গে বলেন ‘পুরাতন বই হোক অথবা নতুন বই হোক, কোন স্কুলের প্রদান শিক্ষক সরকারী বিধি অনুসরণ না করে বই বিক্রি করতে পারবেন না। বই বিক্রি প্রয়োজন হলে সরকারি বিধি মোতাবেক বই বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা জমা দিতে হবে। নইলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, পুরাতন বই বিক্রির একটি চক্র আছে, যারা পুরনো বই কেনাবেচার সাথে যুক্ত। কোন কারণে বছরের শুরুতে সরকারি বই বিতরণে বিলম্ব হলে, তখন পুরাতন বই ছাত্র/ছাত্রীদের চাহিদাপূরণে সহায়ক হয়। স্কুলে বই না পেলে, শিক্ষার্থী তখন বাধ্য হয়ে এইসব বই পুরাতন বইয়ের দোকান হতে চড়াদামে ক্রয় করে পাঠ্যক্রম চালিয়ে যায়।



