আলী আক্কাছ, গুরুদাসপুর : গুরুদাসপুওে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার প্রসঙ্গে তার পরিবারকে শান্তনা দিয়ে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সমাজকল্যাণ এবং শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, ‘শাকিল হত্যার বিচার হতেই হবে বাংলার মাটিতে। তাকে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। অপরাধী যেই হোক তার সাজা হতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয়, সে চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় কোনো ভাংচুর করা যাবে না। আমি শাকিলকে ঢাকায় হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। কবর জিয়ারতের সময়ওর ছবি শুধু চোখের সামনে ভাসছিল।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে গুরুদাসপুওে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে ওই কথাগুলো বলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল। এসময় জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত শাকিলের বাড়িতে যান প্রতিমন্ত্রী পুতুল।এ সময় তাঁর সাথে নাটোর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও মিজানুল হক ডিউক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল মালুম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন সহবিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষোভে ফুসছে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামবাসী। থানা থেকে হত্যাকান্ড ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমপিপুত্র মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওসি আব্দুল হান্নানও স্ট্যান্ডরিলিজ হয়েছেন। শাকিলকে হামলার ১২ দিনেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি এপ্রিল মাসে জীবননাশের আশঙ্কায় করা সাধারণ ডায়রিও থানা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শাকিলের বাবামা। এখনো প্রতিবাদেও তীব্র ঝড় বইছে এলাকায়।
শাকিলের বাবা রবিউল বলেন, ‘আমি আমার ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই। কিন্তু পুলিশ আমার দেওয়া আসামীদেও নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত নামে মামলা দিয়েছেন। এজন্য শাকিল হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
কবর জিয়ারতের আগে ও পওে শাকিল হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এসময় ‘শাকিল কবরে-খুনি কেন বাহিরে, প্রশাসন নীরব কেন? জবাব চাই দিতে হবে’ শ্লোগানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
উল্লেখ্য, ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে শাকিলের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হেলমেট পড়া দুই যুবক। তাকে উদ্ধার কওে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে ও পওে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।



