8.9 C
New York
Monday, April 27, 2026
No menu items!
Homeশীর্ষ সংবাদগুরুদাসপুরে জ্বালানী তেলের হাহাকার!

গুরুদাসপুরে জ্বালানী তেলের হাহাকার!

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে চাহিদার অর্ধেক তেলও পাওয়া যাচ্ছেনা। ফিলিং স্টেশনের দীর্ঘলাইনে অস্বস্তিতে থাকা জনমনে ভীতি ও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে তেল পাচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। পাম্পে প্রায়ই সংঘর্ষ ও মারামারি ঘটনা ঘটছে। কৃষকদের অভিযোগ, তেল নিয়ে রাতের আঁধারে চলছে সিন্ডিকেট।
এদিকে তেলের অভাবে কৃষকরা ফসলী জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। ধান মাড়াই, কাটা-ছাটাইয়ের কাজও ধীরগতিতে চলছে। যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্র্যোগের আগে কৃষকের ফসল ঘরে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফসলী জমিতে অবৈধ ভেকু দিয়ে পুকুর খননে শতশত লিটার ডিজেল ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ডিজেলের অভাবে কৃষি অবাদে হুমকীর সম্মুখীন হচ্ছেন খোদ কৃষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছকু ভেকু সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিকভাবে একটি ভেকু দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা পুকুর খনন করতে পারে। ঘন্টায় ১০-১২ লিটার ডিজেল লাগে। সে হিসেবে এক ভেকুতেই প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৫০ লিটার তেল প্রয়োজন হয়।
স্থানীয় চলনবিল ফিলিং স্টেশন দেখা যায়, লাইনে থাকা অসংখ্য কৃষক ও ফুয়েল কার্ডপ্রাপ্ত মোটরসাইকেল চালকরা তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাম্প থেকে জারকিন (ঢোপ) ভর্তি করে তেল নিয়ে পরবর্তীতে তা বেশি টাকায় বিক্রি করছে একটি চক্র।
সম্প্রতি কাঙ্খিত তেল না দিয়ে স্টেশনের মালিক কৃষকদের ওপর চড়াও হন। উত্তেজিত পরিস্থিতিতে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এমতাবস্থায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক অবোরোধকারী বাইকারদের ওপর হামলা চালায় পাম্প মালিকের লোকেরা। এতে জরুরী সেবাদানকারী যানবাহনসহ কৃষক ও সাধারণ বাইকাররা পড়েছেন মহাবিপদে।
বাইকাররা জানান- সবাই কষ্ট সহ্য করে সিরিয়ালে তেল নিচ্ছিলেন। কিন্তু নিয়ম ভেঙে জারকিনে তেল দিতে বাঁধা দিলে পাম্প মালিক তেল দেয়াই বন্ধ করে দেন। ফলে সকাল ৮টা থেকে অপেক্ষা করেও হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। পরে অন্যত্র বেশি টাকায় তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চলনবিল ফিলিং স্টেশনের মালিক খবির উদ্দিন বলেন- ‘স্টেশন ফাঁকা ও সুন্দর দেখাচ্ছে। গত ৫ দিন ধরে স্টেশনে তেল নেই। ঘুরে যাচ্ছেন সবাই। যেখানে তেলই নাই সেখানে কিসের প্রভাব খাঁটানো হচ্ছে ?’
অপরদিকে স্থানীয় ‘নজরুল এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘হাকিম এন্ড সন্স’ এজেন্সিতে বেশিরভাগ সময় তেল সরবরাহ থাকেনা। যে পরিমাণ জ্বালানী সরবরাহ পায় তাতে কৃষকের চাহিদা মিটেনা। ফলে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছে না ডিজেল, পেট্রোল-অকটেন।
কৃষকদের দাবি- ‘সেচ সংকটে ফসল চিটা ও ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের ধান, পাট, গম, ভুট্টার জমিতে সেচ দেয়ার তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু ফসলী জমিতে পুকুর খননকারী অবৈধ ভেকু মালিকরা ঠিকই তেল পাচ্ছেন। দ্রুত তেল সংকট নিরসন না হলে চাষাবাদ চরমভাবে ব্যাহত হবে।’
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, কৃষকদের ৫ লিটার করে তেল দেয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসের প্রত্যয়ন অনুযায়ী ফুয়েল কার্ডও পাচ্ছেন তারা। পুকুর খননকারীরা কিভাবে তেল পাচ্ছেন তা জানা নেই। এ ধরণের অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্র্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments