বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি: ভরা বর্ষার মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় আমন ও পাট চাষে সংকট দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষক এখনও আমনের চারা রোপণ করতে পারেননি। আবার যেসব জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোও পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কাটা পাট জাগ দিতে না পেরে ক্ষেতেই ফেলে রাখছেন অনেক পাটচাষি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে নড়ইগাছা, তমালতলা ও লোকমানপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ভরা বর্ষার মৌসুমেও অনেক জমিতে পানির দেখা নেই। কোথাও মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে, কোথাও উড়ছে ধুলা। বৃষ্টির অভাবে আমনের আবাদ পিছিয়ে পড়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৩৭৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এখনও অনেক কৃষক চারা রোপণ শুরু করতে পারেননি।
ধানচাষি আলতাব আলী ও সোহেল রানা জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক জমিতে এখনও আমনের চারা রোপণ করা যায়নি। যেসব জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোও পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। সেচ দিয়ে আবাদ রক্ষার চেষ্টা করলেও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত বৃষ্টি না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। একই সংকটে রয়েছেন পাটচাষিরাও। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কাটা পাট জাগ দিতে পারছেন না অনেক কৃষক। ফলে ক্ষেতেই পড়ে থেকে পাটের আঁশের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং বাড়ছে লোকসানের আশঙ্কা। পাটচাষি মকবুল হোসেন ও বাদশা জানান, খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি না থাকায় কাটা পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ক্ষেতেই পাট ফেলে রাখতে হচ্ছে। এতে পাটের আঁশের মান কমে যাচ্ছে। দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাদের। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় বলেন, “প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছু এলাকায় আমনের আবাদ ব্যাহত হয়েছে। যেসব জমিতে পানি নেই, সেখানে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাটচাষিদেরও বিকল্প ব্যবস্থায় পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে।”



