বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একই সাথে জমজ তিনটি শিশুর জন্ম দিয়েছেন হত দরিদ্র পরিবারের গৃহবধু মোছাঃ শিমলা বেগম (১৯)। ফুটফুটে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়ে পরিবারে আনন্দের আমেজ বিরাজ করলেও তাদের লালন-পালন ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত ব্যায়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন শিমলা ও তার পরিবার। হতদরিদ্র গৃহবধু শিমলা বেগম বাগাতিপাড়া উপজেলার ২নং জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ আশরাফ আলীর ছেলে দিনমুজুর মোঃ সবুজ আলীর স্ত্রী। সরেজমিনে জানা যায়,। সবুজ বাবা মা সহ পরিবারকে নিয়ে আনুমানিক তিন শতাংশ জমির ওপরে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি বসত বাড়ি। জীবন ও জীবিকার তাগিদে দিনমুজুরের কাজ করে কোনমতে চলছিলো তাদের অভাবের সংসার। এরিমধ্যে তাদের ঘর আলো করে একই সাথে জন্ম নেয় দুই মেয়ে ও একটি পুত্র সন্তান। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ওই তিন শিশু-আফি,আফিয়া,ছামিয়া এই তিন শিশুর লালন-পালন ও চিকিৎসা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে গেলে আশ্বাস মিললেও, মিলেনি কোন সহযোগিতা। এমতাবস্থায় পরিবারটি পরেছেন চরম বিপাকে। স্থানীয়রা জানায়, পরিবারটি খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে। এমনিতেই ৪ জনের সংসারে অভাবের শেষ ছিলোনা তার উপর আরো যমজ তিনটি শিশু সন্তান নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। আশেপাশের লোকজন যে যতটুকু পারছে সহযোগিতা করছে, কিন্তু এভাবে কয়দিন চলবে। সরকারী ভাবে যদি এদের একটু সহযোগিতা করা যেতো তাহলে খুবই ভালো হতো। তিন সন্তান জন্ম দেয়া গৃহবধু শিমলা বলেন, গত ৯-৭-২০২২ ইং রোজ শনিবার ঈদের আগের দিনপ আল্লাহ্ আমার কোলজুড়ে ফুটফুটে তিনটি সন্তান দিয়েছেন। এই তিনটি সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে ধারদেনা করে আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি। তিনটি সন্তানের জন্য প্রতিদিন একটি ল্যাকটোজেন ওয়ান ও মিসরি লাগে যার দাম প্রায় সাড়ে ৬শ টাকা। এর উপর আবার আমাদের নিজেদেরও তো পেট আছে। আমার স্বামী দিনমুজুরের কাজ করে প্রতিদিন আয় করে ২০০ শত টাকা। যার কারণে প্রতিদিনই কারো না করো কাছ থেকে ধারদেনা করে ওদের খাবার যোগাতে হয়। এভাবে আর কয়দিন চলবে। সরকার, চেয়ারম্যান মেম্বারসহ বিত্তবানরা যদি আমাদের একটু সহায়তা করতো তাহলে এই শিশু সন্তানদের লালন ভালভাবে করতে পারতাম।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, এক সঙ্গে তিনটি শিশু জন্ম নেওয়ার বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম। প্রথমে নতুন অতিথি যারা আসেছেন তাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি। তারা যেন সু-নাগরিক হিসেবে বড় হয়ে ওঠে। এবং পরিবারের যারা বাবা-মা আছেন তাদেরকেও অভিনন্দন জানাই। আজকের শিশু আগামি দিনের ভবিষ্যৎ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে এই শিশুদের বড় হয়ে ওঠার জন্য আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।






