8.9 C
New York
Saturday, April 4, 2026
No menu items!
Homeশীর্ষ সংবাদবাগাতিপাড়ায় রাতভর স্ক্যাভেটরে কাটা হচ্ছে ফসলি জমি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বাগাতিপাড়ায় রাতভর স্ক্যাভেটরে কাটা হচ্ছে ফসলি জমি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আল-আফতাব খান সুইট, বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় রাতের অন্ধকার নামলেই যেন শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব। গভীর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ক্যাভেটর ও মাটি বোঝাই গাড়ির বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের কাঁকফো বাসুপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে এই মাটি কাটা সিন্ডিকেট। তারা ভূমি ব্যবস্থাপনা ও কৃষিজমি সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে কৃষিজমি কেটে মাটি বিক্রি করছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাত গভীর হলেই এলাকায় শুরু হয় স্ক্যাভেটরের শব্দ। প্রশাসনের অভিযান এড়াতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাহারাদার রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে কাঁকফো বাসুপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসুপাড়া মন্দিরের পাশের কৃষিজমিতে স্ক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলছিল। স্থানীয়রা জানান, সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, মাটি বহনকারী ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত কৃষিজমি ও গ্রামীণ রাস্তার ওপর দিয়ে চলাচল করায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলোবালিতে বসতবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কথিত যুবদল নেতা ওসমান, গাফফার, স্বাধীন ও ইসলাম। এ বিষয়ে বাসুপাড়া ওয়ার্ড যুবদলের নেতা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় এক সাংবাদিক মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পুকুর খননের কথা অস্বীকার করে বলেন,
“কোনো অনুমতি নেই, তবে ছোট্ট একটি পুকুর খননের কাজ হচ্ছে।” একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন, আপনার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।”

তার এই বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন-কে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, “ঠিক আছে, বিষয়টা আমি দেখবো।”

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও রাস্তা পুনর্বাসন, এবং প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments