প্রান্তজন রিপোর্ট: নওগাঁর মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈনম হিন্দু পল্লীতে গভীর রাতে পুলিশের অভিযানের নামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি তেল মজুতের তথ্যের ভিত্তিতে মান্দা থানার ওসি কেএম মাসুদ রানার নেতৃত্বে একদল পুলিশ হঠাৎ করে গ্রামের অন্তত সাতটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তারা দরজায় লাথি, চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। গভীর রাতে এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ডাকাত সন্দেহে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগী মুদিখানা ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র মণ্ডল জানান, চিৎকার ও দরজায় আঘাতের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি পরিবারসহ উপরের তলায় আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পর রাত প্রায় ২টার দিকে দরজা খুলে দেন। দরজা খোলার পর পুলিশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং ধাক্কা দিয়ে গুদামে নিয়ে যায়। সেখানে কোনো তেল মজুতের প্রমাণ না পেয়ে পুলিশ চলে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৪৫ বছর ধরে বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। একই পল্লীর আরও কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে নারী-শিশুসহ বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ডেকোরেটর ব্যবসায়ী বাবলু কুমার প্রামাণিক বলেন, গভীর রাতে পুলিশের এমন আচরণে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে অভিযানের বিষয়ে ওসি কেএম মাসুদ রানা বলেন, সংকট সৃষ্টির আশঙ্কায় তেল মজুতের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। এ বিষয়ে মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, “বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়নি, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”



