স্টাফ রিপোর্টার: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কৃতি সন্তান, বিশ্ববরেণ্য চারুকলার শিক্ষক, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার এ বছরের একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর হাত থেকে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। এই গৌরবজনক অর্জনে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ, গর্ব ও উৎসবমুখর পরিবেশ। সংস্কৃতি ও শিক্ষায় ঐতিহ্যবাহী বড়াইগ্রামের নাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও একবার গৌরবান্বিত করলেন এই কৃতি সন্তান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পায়, সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত, সমৃদ্ধ ও নৈতিকতার মানদণ্ডে উন্নীত হয়। জাতির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুণীজনদের অবদান অপরিসীম। সে কারণেই রাষ্ট্র তাদের যথাযোগ্য সম্মাননা প্রদান করে।
১৯৪৭ সালে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার চকবড়াইগ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণকারী আব্দুস সাত্তার শৈশব থেকেই মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে বেড়ে ওঠেন। গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশ, প্রকৃতি ও লোকজ সংস্কৃতি তার শিল্পভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৭৩ সালে ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রকলা, ছাপচিত্র ও ভাস্কর্যের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য এবং নিউইয়র্কের প্রাট ইনস্টিটিউট থেকে ছাপচিত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশের কাঠখোদাই শিল্পের ওপর গবেষণা করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে তিনি চারুকলার পাশাপাশি নন্দনতত্ত্ব বিষয়েও অসামান্য অবদান রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি অনারারি অধ্যাপক হিসেবে নিয়মিত পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। তার এই স্বীকৃতি বড়াইগ্রামবাসীর জন্য এক অনন্য গর্বের উপলক্ষ। স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণ প্রজন্ম মনে করেন, অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারের অর্জন বড়াইগ্রামের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, শিল্প ও গবেষণায় আরও অনুপ্রাণিত করবে।



