মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার মহল্লা রওশন নগর। সহধর্মিণী জাহানারা দুই মেয়ে তিন ছেলে নিয়ে এছার উদ্দিন শেখের সংসার। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থির সময়ে ভিটে ছেড়ে চলে আসেন নাটোর ছাতনী ইউনিয়নের ভাবনী গ্রামে সহধর্মিণীর ভাইয়ের বাড়ি।
একাত্তরের ৪ জুন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ‘রেড লেটার ডে’। নাটোরের সবচেয়ে বড় নারকীয় ঘটনা। পাক হানাদার বাহিনীসহ বিহারীরা ৩৭০জন নিরীহ মানুষ হত্যা করে। নাটোর শহর, পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও রাজশাহী তাহেরপুরের অধিবাসী, এদের সবাইকে ছাতনীর আমবাগানে হাত বেঁধে জবাই করে। তাদের মধ্যে নিরীহ এছার উদ্দিন শেখ শহীদ হোন।
বিহারী তাণ্ডবে স্বামীর মৃত্যু সংবাদে চিৎকার করে কাঁদতে পারেনি জাহানারা। মায়ের শাড়ি জড়িয়ে দাফন করেন। ভাবনী গ্রামের ঘরে ঘরে মৃত্যু শোক। আতংকে টু শব্দ করতে পারেনি কেউ। শহীদ স্বামীর কবর আঁকড়ে ৫ সন্তান নিয়ে জাহানারা ভাইয়ের বাড়িতে ছাতনীর ভাবনী গ্রামে থেকে যান।
কথা প্রসঙ্গে শতবর্ষী জাহানারা শৈশবে ফিরে যান। চার আনা সের চাউল, আড়াই টাকায় কাপড় কিনেছেন। দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ। কালোর্ত্তীর্ণ সংগ্রামের দীর্ঘপথ পরিক্রমায় ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে ৫ প্রজন্মের জাহানারা পৌত্রীর পৌত্রকে নিয়ে নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে চলেছেন। সম্বল কেবলই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এছার উদ্দিন শেখের কবর। ২৩ আগস্ট /২৪ এই সংগ্রামী নারী মৃত্যু বরণ করেন।
* লেখা ও ছবি: এফএ ওয়াশি বাপি



