8.9 C
New York
Wednesday, February 4, 2026
No menu items!
Homeশীর্ষ সংবাদশিক্ষকহীন পরীক্ষায় হযবরল; বাগাতিপাড়ায় অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ

শিক্ষকহীন পরীক্ষায় হযবরল; বাগাতিপাড়ায় অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধিঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির ফলে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সোমবার তৃতীয় পর্যায়ের প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক) পরীক্ষা থাকায় শুধু নামেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে পরীক্ষা। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থাকায় এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ অভিভাবকরা বলছেন এভাবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা নেওয়ার চেয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়াই উত্তম। অভিভাবকদের অভিযোগ এভাবে পরীক্ষা হলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। অন্যদিকে কর্মবিরতিতে থাকা শিক্ষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে শুধু একজন প্রধান শিক্ষক এবং একজন দপ্তরির ওপর ভরসা করে এই ধরনের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক মূল্যায়ন পরিচালনা করা সরাসরি শিশুদের সঙ্গে অন্যায়।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) উপজেলার ৫৬টি বিদ্যালয়ে একযোগে তৃতীয় পর্যায়ের প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়,পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান না থাকায় পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একজন প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির ওপর সম্পূর্ণ পরীক্ষার দায়িত্ব পড়ে যাওয়ায় কোনো সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কক্ষে শিক্ষার্থীরা চিৎকার-চেঁচামেচি, হাঁটাহাঁটি, বই খুলে লেখা সব ধরনের অনিয়মই ঘটছে। সারা বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষার দিন এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে এটা কেউই ভাবেনি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা বন্ধের দাবি তুলেছেন।
পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদ হাসান মেধা বলে, এভাবে পরীক্ষা দেওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। শিক্ষক ক্লাসে আসুক, না হলে পরীক্ষা বন্ধ করে দিক। কোনো শৃঙ্খলা নেই, সবাই চেঁচামেচি করছে এই পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব না।
পৌর এলাকার পেড়াবাড়িয়া মহল্লার এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন সকালে মেয়েকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসে দেখি শিক্ষকরা নেই। আগে থেকে জানতাম না যে তারা পরীক্ষা বর্জন করছেন। সারা বছর ক্লাস করে তৈরি হয়ে পরীক্ষা দিতে এসে এমন বিশৃঙ্খলা! এতে বাচ্চাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। খাতা দেওয়ার মতো কেউ নেই। একজন প্রধান শিক্ষক কতগুলো কক্ষ সামলাবেন। এভাবে পরীক্ষা হলে সন্তানরা ধ্বংস হয়ে যাবে। তার চেয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দিলেই ভালো হয়। এ ছাড়াও একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি পরীক্ষা নিতেই হয়, তাহলে সঠিক পরিবেশে নিক। না হলে পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করুক। শিক্ষকবিহীন কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছেলেখেলা করার অধিকার কারও নেই।
পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন,আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় আমার এবং দপ্তরির ওপরই সব দায়িত্ব পড়েছে। এটা খুবই কষ্টসাধ্য।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধি পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামিম শাহারিয়া বলেন, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারাা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। দাবি বাস্তবায়ন হলে ছুটির দিনগুলোতেও পরীক্ষা তারা নেবেন। তিনি বলেন, তারা বাচ্চাদের জিম্মি করতে চায় না। সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা দ্রুত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলে তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন। তাছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক অন্যান্য সহকারি শিক্ষকরা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কর্মবিরতিতে আছেন। তিন দফা দাবি পূরণ না হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান বলেন , প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট কি না এ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বরং জানিয়েছেন, অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় এখনো বিদ্যালয়গুলোতে তিনি যাননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন,সমস্যাটি হঠাৎ করে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা বন্ধ করার সিদ্ধান্তে তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়, এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়। যেহেতু সমস্যা সারা দেশের, তাই এ বিষয়ে দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি মনে করেন।

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments