গুরুদাসপুর প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে লোডশেডিংয়ের চেয়েও বড় সমস্যা লাইন ফল্ট। মান্ধাতা আমলের লাইন আজ পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। একটু ঝড়বৃষ্টি হলেই লাইন ফল্ট হয়ে যায়। ফল্টের জায়গা অনুসন্ধান করতে দিন চলে যায়। কখনো রাত কেটে যায়। নাটোর গ্রিড থেকে বিস্তৃর্ণ মাঠের মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকাভাবে গুরুদাসপুর পর্যন্ত লাইন টানা আছে। মান্ধাতা আমলের ওই লাইন আজও আপগ্রেড করা হয়নি। নাটোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জিএম মো. মমিনুল হক বলেছেন, মাঠের মধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় পুকুর থাকায় ফল্ট লাইন চেক করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঢাকা থেকে লাইন কেটে দেওয়া আরেক সমস্যা। গুরুদাসপুর এলাকায় ঢাকা থেকে লাইন কেটে দেওয়া হলেও বনপাড়া, লালপুর, বাগাতিপাড়া এলাকায় এমনটা করা হয়না বলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ তুলেছেন। জিএম মমিনুল এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুধু গুরুদাসপুর নয় সব এলাকাতেই সমন্বয় করে ঢাকা থেকে সুইচ অফ করা উচিত। গুরুদাসপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুর রশিদ বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলায় ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন কিন্তু পাচ্ছি ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিভিন্ন ফিডারে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ঢাকা ও নাটোর গ্রিড থেকে লাইন কেটে দেওয়া, মান্ধাতা আমলের লাইন আপগ্রেড না করা এবং ঘনঘন লোডশেডিং সমস্যার সমাধান না হলে গুরুদাসপুরবাসীর বিদ্যুৎ সমস্যা মিটবে না। উপজেলার মশিন্দা মাঝ পাড়া গ্রামের স্বপন মিয়া ও আনিছুর রহমান বলেন, পৌর সদরে ৮/৯ ঘন্টা লোডশেডিং করা হলেও গ্রামাঞ্চলে তারও বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। অনেকের মতে নাটোরের ৭টি উপজেলার মধ্যে গুরুদাসপুরে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। এব্যাপারে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
পোয়ালশুরা দড়িপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ও আব্দুল আলিম বলেন, রাত দশটার পরে লোডশেডিং হলে ঘুমের চরম ব্যাঘাত ঘটে। তাই গভীর রাতে লোডশেডিং না করার দাবি জানিয়েছেন তারা। উপজেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, শিডিউল মোতাবেক ২৪ ঘন্টায় ১ ঘন্টা এবং পরিস্থিতি বুঝে ২ ঘন্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে। কিন্তু ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৮ ঘন্টা লোডশেডিং করায় মিল-চাতালগুলো বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এদিকে লোডশেডিং সমস্যার কারণে গুরুদাসপুর ও চাঁচকৈড় বাজার রাত আটটায় বন্ধ থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ পাড়া মহল্লায় গড়ে ওঠা দোকানপাট, চা স্টল খোলা রেখে টিভি দেখা হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় না হয়ে অপচয় হচ্ছে। গত ২৬ জুলাই গুরুদাসপুর উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ কথা বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন। চাঁচকৈড় বাজারের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী মো. হামিদুল ও বারেক মন্ডল বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিপর্যয়ের কারণে চার্জার ফ্যান ও চার্জার লাইট প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। এখনো ব্যাপক চাহিদা কিন্তু সরবরাহ না থাকায় বেচা-বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আবার চাহিদা থাকায় দাম বেড়ে গেছে এসব পণ্যের। অপরদিকে লোডশেডিং থাকায় বিপনি বিতান, মসজিদ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডিজেল চালিত জেনারেটরের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডিজেলের সংকট দেখা দিতে পারে।