প্রান্তজন রিপোর্ট: নাটোরে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের দোকান ঘর বরাদ্দের দাবী জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের। সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ আফরোজা খাতুন স্বাক্ষরিত এক পত্রে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ১ম ও ২য় তলায় ১২টি দোকান ঘর ভাড়া প্রদানের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে যে সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বরাদ্দের দাবি করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোতাহার আলীর সন্তান সৈয়দ মোর্তুজা আলী মুকুল বলেন, ঘর ভাড়ার যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। এছাড়া শর্তে বলা হয়েছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের কেউ এসব দোকান ভাড়া নিতে পারবেন না। এসব শর্ত জুড়ে দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীউর রহমান পিপলু ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম নান্টু বলেন, নাটোর সদর উপজেলায় মোট সাড়ে চারশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য যারা এসব দোকান নিতে ইচ্ছুক তাদের আবেদন নিয়ে লটারি বা অন্য কোন পন্থায় ঘর বরাদ্দ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা দেয়া যেতে পারে।
নাটোর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক ও পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুন্দর ও সম্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহ করার উদ্দেশ্যে সারা দেশে এমন কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দিয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেন সম্মানহানি না হয় এবং মর্যাদার সাথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে বলেছেন। মুক্তিযোদ্ধারা যেন কখনও অপমানিত বা অবজ্ঞার শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। নাটোর সদর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের দোকান ঘর ভাড়া প্রদানের কোন শর্ত জুড়ে না দিয়ে শুধুমাত্র ইচ্ছুক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বা লটারির মাধ্যমে দেওয়া হোক বলে তিনিও দাবি জানান।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ আফরোজা খাতুন বলেন, মন্ত্রনালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী দোকান ঘরের ভাড়ার বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আবেদন বা অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক সহ সকল জন প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলা হবে। তবে তিনি এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরামর্শ দেন।