নাটোর প্রতিনিধি: নাটোর সদরের হালসা ইউনিয়নের বাগরোম বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় উৎকোচের বিনিময়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকদের বঞ্চিত করে নতুন ছয় শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়, দুদক ও জেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শফিকুল ইসলাম নামের এক বঞ্চিত শিক্ষক।
জানা যায়, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় সরকারি কোন অনুদান ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিলো নাটোর সদর উপজেলার বাগরোম বালিকা দাখিল মাদ্রাসা। ২০২০ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভূক্ত হয়। ওই বছর ছয়টি পদে কামাল হোসেন, মোখলেসুর রহমান, মিজানুর রহমান, আয়েশা বেগম, হযরত আলী ও মাহামুদা খাতুনকে নিয়োগ দেয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সবাই নতুন। নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী অগ্নিসংযোগ ভাঙচুরে জড়িতের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে বহিস্কৃত মাদ্রাসার সহকারী সুপারভাইজার আনিসুর রহমান লাবুও।
এমপিওভুক্তির পর আগের শিক্ষক কর্মচারী বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগেরও অভিযোগ মাদ্রাসা সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে। রয়েছে ভূমি দখলেরও অভিযোগ। শফিকুল ইসলাম নামে সাবেক এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, আমার প্রয়াত পিতা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠালগ্নে ১.২৬ একর জমি দান করেন। ২০০৪ সালে ছয়জন শিক্ষককে নিয়োগ দেখানো হয়েছে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা করকর্তাসহ অনান্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে। কিছুদিন আগে ছয় শিক্ষকের থেকে ৮০ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন মাদ্রাসা সুপার মাহবুবুর রহমান ও সভাপতি শাহীন আলম। মাদ্রাসা সুপার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আর কয়েকবার যোগাযোগ করলেও কথা বলতে রাজি হয়নি মাদ্রাসার সভাপতি।
বাগরোম বালিকা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি বিধি মোতাবেক সকল শিক্ষক মিলেই এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে ৮০ লক্ষ টাকার যে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে এটা মিথ্যা ও বানোয়াট।’
নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, আমি সরেজমিনে বাগরোম মাদ্রাসায় উপস্ততি হই। এই মাদ্রাসায় যারা এতদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন তাদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে দাবী জানাচ্ছি।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আকতার হোসেন বলেন, আমি জেলায় নতুন যোগদান করেছি। এই ঘটনার
অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে। অনিয়মের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়ম দুর্নীতি দূর করে যোগ্য শিক্ষকরাই মূল্যায়ণ পাবেন এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।






